অশান্তিতে আছি!

লেকের পাড় ঘেষে হাটছি, আশেপাশে কেউ নেই..।। ওই সময় কত করে ইনিয়ে বিনিয়ে হাতটা ধরতে চাইলাম..।। দিলোই না..!!

না!! মানুষ দেখবে, লজ্জার বিষয়..।।

তাইলে প্রেম করে কি লাভ..?? 😒

কত পাবলিক আছে এখানে গাছের সাথে ঢেলান দিয়ে বসে চুমাচুমি করে..।। আর আমি নিরীহ বেচারা ইনোসেন্ট, হাতটাই তো ধরতে চাইছিলাম শুধু..!! -_-

পরের দিন বাসে করে যাচ্ছি..।। তখন “আমি না খুব টায়ার্ড” বলেই আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুম..।। মেজাজটা তখন কেমন লাগে, বলেন..?? ইচ্ছে করছিলো একটা থাপ্পড় মেরে উঠিয়ে দিয়ে বলি,

– “এখন কেউ দেখে না, না..??”

মুখের দিকে তাকিয়ে একটু প্রেম বেড়ে গেলো..।।

আহা, এই মেয়েটা আমার..।। আমাকে ভালোবাসে..।। যাক, কেউ না কেউ তো আছে কাঁধ দখলের..।। 😊

সেদিন কি হইছে শুনেন,

আমাকে একটা ছোট্টমোট্ট টেডি বিয়ার গিফট করেছে..।। বলছে,

– “টেডির বুকের মধ্যে চাপ দাও..।।”

– “ইয়াল্লা, বুকে চাপ দিবো..??”

– “এইটা ছেলে টেডি, দাও চাপ..।। সমস্যা নাই..।।” (মেয়েটা একটু নির্লজ্জ)

– “দিতাই যখন একটা মেয়ে টেডি দিতা..!!” (আমি আবার একটু বেশী নির্লজ্জ)

যাইহোক, অনেকক্ষণ বুক টিপলাম..।। 😒

কিন্তু কিছুই হয় না..।। ও বললো,

– “আজব, নষ্ট কিনলাম নাকি..?? এইটা তো মিউজিক টেডি..।। বুকে চাপ দিলে কথা বলবে..।।”

– “ছেলে টেডি তো, তাই বুক টিপলে চিল্লায় না..।। মালিশ নিতাছে..!!”

কিছুক্ষণ পর আবিষ্কার করলাম, টেডির গলা টিপ দিলে আওয়াজ আসছে,

– “ই ইইই, ইইই..।। আই লাব ইউ..!!”

বেচারী, আমাকে ভালোবাসে সেটা জানার জন্যও তার গলা টিপে ধরে বলতে হয়,

– “ভালোবাসা দিবি কিনা বল..!!”

– “ই ইইই, ইইই..।। আই লাব ইউ..!!”

পরশুদিন বৃষ্টিতে হঠাৎ উদাস লাগছিলো, ভাবলাম এই বৃষ্টির রাতে খাওয়া দাওয়া করবো না..।। বাসায় খিচুড়ি হলেও একটা কথা ছিলো..।। রোমান্টিক বৃষ্টির সাথে “ভাত আর তেলাপিয়া মাছ” জিনিসটা ঠিক যায় না..।। 🙂

উদাস মনে ওকে ফোন দিয়ে রোমান্টিকভাবে বললাম, নতুন প্রেমিকরা নাকিসুরে যেভাবে বলে আরকি,

– “ইয়ে, তুমি আমাকে কতগুলা ভালোবাসো..??”

– “তুমি যতগুলো ভাত খাইছো, ততগুলো ভালোবাসি..!!”

উদাস মন আরো উদাস হয়ে গেলো..।। ঠিকই আছে, বেশী ঢঙের কথা বলতে গেলে এমনই হয়..।। 😖

গতমাসে ওর থেকে ১০০ টাকা ধার করেছিলাম..।। দুইবার ২০০, ২০০ করে ফেরত দেয়ার পর সে এখনো আমার থেকে ৩০০ টাকা পায়..।। আমি হিসাব মিলাতে পারি না..!!

জোকস্ হলেও আমার জন্য ঘটনা সত্যি!! 😒

খুবই অশান্তিতে আছি, জানেন তো..??

ডেইলি ডেইলি এইটা সেইটা নিয়ে ঝগড়া..।। মুডটাই খারাপ করে দেয়..!! 👿

আমি হয়তো রাগ করে বলবো যে,

– “আমার ঘুম পাচ্ছে, ঘুমাবো..।।”

সে কই বলবে যে “না ঘুমিয়ো না, আসো কথা বলি” সেটা না করে সে গম্ভীর ভাবে সম্মতি দিবে,

– “আচ্ছা, যাও..।। ঘুমাও..!!”

খুব অশান্তিতে আছি ভাই, বুঝতেই তো পারছেন..!! 😞

তারপর অনেকক্ষণ পর আমাকেই আগে স্যরি বলতে হবে, তারপর সেও ঢঙ করে স্যরি বলবে,

– “স্যরি তো, আই লাভু..!!”

আমার মুড তখন খারাপ, তারপরও জোর করে সে আমার মুখ থেকে চুম্মাচাটির আওয়াজ বের করে ছাড়বে..।। 👏

কেমনে বুঝাই, এই কাজটা প্রথমে করলেই তো হয়ে যেতো..!!

#Skblsya √

ভালোবাসার সংজ্ঞা

অনেকেই ঘুম ভেঙে ওপাশে ফোন করে বলবে,

– “তুমি খেয়েছো..??”

শুধু মাত্র অল্প কয়েকজন ক্ষুধা পেটে অপেক্ষা করবে, তার ব্রেকফাস্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক..।। 😃

বিষয়টা অনেক জটিল..!!

তবে, সহজ সমীক্ষা এই যে…..

৯৫ ভাগ মানুষ বলে,

“আমি তোমাকে ভালোবাসি..।।”

আর ৫ ভাগ বুঝিয়ে দেয়,

“আমার তোমাকে লাগবেই..।।” 😍

#Skblsya √

“সোডিয়াম জাদুঘর”

image

মেয়েটার মন ভালো নেই..।। ফোন দিয়ে বলছে,
– “আমাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবা..??”

আমার খুশীতে লাফ দিয়ে ব্যাঙ হয়ে যাওয়ার কথা..।। কিন্তু, ব্যাঙ হতে পারছি না..।। মানিব্যাগ নাই আমার..।। পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম আছে মাত্র ১৭০ টাকা..!! -_-

জানালা দিয়ে পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে ভাবছি এই বাড়িতে গতকালই একটা বড়সড় চুরি হয়ে গেছে..।। চোর হলেও ভালো ছিলো..!!
At least, টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করতে হতো না..।। :/

দাঁড়ি চুলকাচ্ছে..।। হাতের তালু চুলকালেও একটা কথা ছিলো..।। এক মামা বলেছিলো হাতের তালু চুলকালে নাকি হাতে টাকা-পয়সা আসে..।। আর এখন দাঁড়ি চুলকাচ্ছে..।।
এর মানে কি হতে পারে..?? O.o

আবার ফোন,
– “কই তুমি বের হইছো..??”
– “দেখি..।।”
– “দেখি মানে..?? কি দেখো..?? আমি তো বের হয়ে গেছি..।।”
– “ওইতো, আমিও বের হইছি..।। রিক্সা দেখতেছি..।।”

কি আর করার..!!
১৭০ টাকা নিয়েই বের হলাম..।। ওর মন ভালো করার জন্য কি করা যায়..??
মেয়েটার ক্যান্ডেল খুব পছন্দের..।। ক্যান্ডেল দিলে কেমন হয়..!! 😀

আড়ং’এ গিয়ে একটা মোম খুব ভালো লেগে গেলো..।। নীল গ্লাসের মধ্যে ওলিভ কালার মোম..।। নীল ওর খুব পছন্দের রং..।। আর আমার ওলিভ..।। ^_^

নীলের ভেতর ওলিভ..।। ওর ভেতরে আমার বাস..।। আবেগ এসে যাচ্ছে..।। তাহসান স্যারের গানটা মনে পড়ে যাচ্ছে,
“বিন্দু আমি…তোমায় ঘিরে…বৃত্তের ভেতর..” _<

– “শোনো তুমি আমাকে তোমার পছন্দের কোথাও নিয়ে যাও..।।”
– “পরীবাগ যাবা..??”
– “ওখানে কি আছে..??”
– “সোডিয়াম জাদুঘর..।।”
– “মানে..??”
– “চলোই না, গেলেই দেখবা..।।”

আমি ওকে আমার খুব পছন্দের পরীবাগ ওভার ব্রিজের ওপর নিয়ে গেলাম..।। সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশটাই অন্যরকম..।। নীল ছাউনির এই ব্রীজের রেলিংয়ের ওপর হাত দিয়ে দাঁড়ালে দেখা যায় হলুদ সোডিয়াম বাতি আর গাড়ির লাইন..।।
একটার পর একটা গাড়ি..।। ভি.আই.পি রোড..।। কোনো রিক্সা নেই, জ্যাম নেই..।। 🙂

– “এইটা তোমার সোডিয়াম জাদুঘর..!!”

আমি ওকে বুঝিয়ে দিলাম..।। তাকিয়ে দেখো একসাড়িতে গাড়ি গুলো সামনে যাচ্ছে, আরেক সাড়িতে গাড়িগুলো আমাদের দিকে আসতেছে..।।
যে গাড়িগুলো আসতেছে সেগুলোর সামনের বাতি হলুদ, আর যেগুলো যাচ্ছে সেগুলোর পিছনের বাতি লাল..।। ^_^

আইল্যান্ডকে দুইভাগ করে দুইদিকে তাকালে একদিকে শুধু হলুদ বাতি আর একদিকে শুধুই লাল বাতি..।। মনে হবে শুধু শতাধিক বাতি ছুটে বেড়াচ্ছে..।।
আর উপরে হেডলাইটের সোডিয়াম তো আছেই..।। 😀

– “তুমি এত্তো রোমান্টিক..!! আমার মনটাই ভালো হয়ে গেছে..।।”

– “আচ্ছা, এই জায়গার নাম পরীবাগ কেনো..।। পরী কই..??”
– “আমার সাথেই..।।”

উত্তর শুনে ও চুপ..!!
অনেকক্ষন কেউ কোনো কথা বলছি না..।। ও আমার সোডিয়াম জাদুঘর দেখছে, আর আমি আমার পরীবাগের পরী দেখছি..।। হলুদ বাতির আভা ছড়িয়ে গেছে পরীটার চোখে মুখে..।। ❤

হঠাৎ শরীর কাঁপিয়ে বিদ্যুৎ খেলে গেলো..।। ও আমার হাত ধরেছে..।। কারেন্টের শক দিয়েছে কেউ আমাকে..।। :O

ও তাকিয়ে আছে অন্যদিকে..।। ওর দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বললাম,

“গভীর রাতের সোডিয়ামে,
হলুদ আমি হলুদ তুমি..।।
কালো আকাশের মাঝখানেতে,
হলুদ বাতির এইখানেতে..।।”

– “খুব সুন্দর একটা সন্ধ্যা..।। তাই না..??”
– “অনেক বেশী সুন্দর..!!”

হাতে চাপ বেড়ে গেছে..।। শরীর বেয়ে কারেন্ট বয়ে যাচ্ছে..।। ভোল্টেজ অনেক হাই..।। আমি মরে যাবো..!! 😥

#Skblsya √

Find Me On Facebook →
facebook/Skblsya22

একজন মধ্যবিত্তের বিকেল

image

মন মেজাজ খুবই খারাপ..।। দুপুরের খাবারে তেলাপিয়া মাছ দেখলে আর রুচি থাকে না..।। তবুও আইনস্টাইনের মতো Imagine করে নিলাম ইহা একটা মুরগীর রোস্ট..।। -_-

এক চিমটি লালশাক দিয়ে মুরগীর রোস্টে কামড় দিতে যেতেই এক বিরক্তিকর বান্ধবীর ফোন..।।

শালার রোস্ট খাওয়ার সময়ও বিরক্ত করে..।। নিশ্চয়ই বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া হইছে..।। এখন তার প্যানপ্যান শুনতে হবে..।। >_<

রোস্টের দিকে তাকালাম..।। কেমন যেনো তেলাপিয়া তেলাপিয়া লাগছে..।। Imagination কাজে আসছে না..।। মোবাইল ফোনের বান্ধবী আর তেলাপিয়া তথা মুরগীর রোস্ট, দুইটাই বিরক্তিকর..।।

ফোনটা তাহলে ধরা যায়,

মাইনাসে মাইনাসে প্লাস..!! :p

ফিজিক্সের আইনস্টাইন ছেড়ে ম্যাথের জন নেপিয়ারের স্টাইল অনুসরন করলাম..।। :3

– “হ্যাঁ বল কি নিয়ে ঝগড়া হইছে..??”

– “আমি কি তোকে শুধু ঝগড়া হলেই ফোন দেই..??”

সত্যিটা লুকিয়ে বললাম,

– “মজা করলাম, বল কেমন আছিস..??”

– “ভালো আছি..।। আমার সাথে একটু রাইফেল স্কয়ারে যাইতে পারবি..?? একটা থ্রি-পিছ দেখে আসছিলাম..।। কিনতে যাবো এখনি..।।”

– “আমি পারবো নারে বোন..।। মাত্রই ঝোল মাখিয়ে রোস্ট খাইতে বসছি..।।”

– “রাখ তোর রোস্ট..।। তোকে সাব-স্যান্ডুইচ খাওয়াবো..।। রেডি হ..!!”

বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে আসলাম..।। এই অপুষ্টির তেলাপিয়া কে খায়..!! Sub-Sandwich, I’m coming.. ^_^

রিক্সায় উঠে ওকে বললাম,

– “দোস্ত, তুই আমার একমাত্র জানের দোস্ত..।।”

– “হইছে আর বলতে হবে না..।। আমি জানি তোকে ফোন দিলেই তুই বিরক্ত হয়ে যাস..।।”

Gottcha.. সব রান্নায় তেল দেয়া যায় না..।। I mean, সব খানে পাম কাজে দেয় না..।।

Whatever, আমি আমার স্যান্ডুইচ পাইলেই হইলো..।। 🙂

কেনাকাটা শেষ করে মার্কেটের নীচে এসে খাবার অর্ডার দিয়ে বসে আছি..।। বান্ধবী এক ছেলেকে দেখিয়ে আমাকে বললো,

– “ওই যে ভাইয়াটা..।। গত শুক্রবার ওনার বিয়ে খেয়ে আসছি হোটেন র‍্যাডিসনে..।। ওনার ৫ টা গাড়ি আর ২ বাড়ি আছে নিজের..।।”

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি লোকটার দিকে..।। ৩০-৩৫ হবে বয়স..।। একটা বাচ্চা ছেলে তার সামনে গিয়ে হাত পাতলো..।। লোকটা কড়া একটা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিলো..।। 😦

একটু পর লোকটা খাবার অর্ধেক ফেলে রেখেই ফোন কানে নিয়ে উঠে গেলো..।। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো..।।

খাবিই না যখন, ওই পিচ্চিটাকে একটু দিলে কি হতো..!! >_<

বান্ধবীও দেখলো..।। সেও হয়তো লজ্জা পাচ্ছে এমন একটা মানুষের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য..।।

পিচ্চিটা একটু পর ঘুরতে ঘুরতে আমাদের সামনে এসে হাজির..।। আমি আমার খাবার পুরোটা ওই পিচ্চিটাকে দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম..।।

বান্ধবী বলছে,

– “কই যাস..??”

– “তোর ভাইয়ার রেখে যাওয়া বাকি খাবার আমি খাবো..।।”

বান্ধবী আমার জিদ দেখে বললো,

– “দোস্ত, ঠান্ডা হ..।। পাগলামি করিস না..।। আমি আরেকটা খাবার অর্ডার দেই..।।”

– “আমি আর খাবোই না..।।”

– “আচ্ছা, আমিও খাবো নারে..।। মুড নষ্ট হয়ে গেছে..।। চল, লেকে ঘুড়ে আসি..।।”

ধানমন্ডি লেকে এসে আমার থেকে আমার বান্ধবীর মনটাই বেশী খারাপ এই ঘটনায়..।। :/

লেকে ঘুরতে ঘুরতে চিন্তা করছি,

কারো কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও দুই টাকা দেয়ার সামর্থ্য নেই..।। আর আমরা মধ্যবিত্তরা সেই গরীব বাচ্চাদের দেখে মনে মনে কাঁদছি..।। যা পারছি, দিয়ে দিচ্ছি..!! 😦

মানে কি..??

আচ্ছা, ধনী লোকের ডেফিনিশন কি হয়..??

যদি ডেফিনিশন ওই লোকটার মতো হয়, আমি কোনোদিনও বড়লোক হতে চাই না..!! >_<

মধ্যবিত্ত হয়ে অনেক ভালো আছি..।। সারা মাস টিফিন খরচের অর্ধেক করে বাঁচিয়ে অপেক্ষা করি Appeliano তে একদিন ভরপুর খাবো..!!

রাস্তায় বন্যা হলে ৫ টাকার ভাড়ায় রিক্সা নিবো না..।। সুন্দর করে কল্পনা করে নিবো এটা কাদা পানি না, এগুলো চকলেট দুধ..!!

তেলাপিয়া ভালো না লাগলে Imagine করে নিবো মুরগীর রোস্ট..!!

নিউমার্কেট থেকে দেড়শো টাকার টি-শার্ট কিনে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরবো..!! ঘোরার জন্য ৫ টা গাড়ির কোনো দরকার নাই..!! -_-

বান্ধবীর মন খারাপ দেখে আমারও আর ভালো লাগছে না..।। Single হওয়ার এই একটা সমস্যা..।।

কারো সাথে কমলা রোদে রোমান্টিক পরিবেশে হাঁটা যায় না..।। আপন করে নিতে ইচ্ছে করে..।। ডান হাতের কনি আঙুল ছটফট করে..।। ❤

নিজেকে রূপকথার Flyn Rider মনে হচ্ছে,

আমি প্রেমে পড়ে যাচ্ছি..!! 😥

#Skblsya √

হিসাবটা সাড়ে সাত হাজারের..!!

image

পরীবাগে দাঁড়িয়ে আছি..।। ব্যাগের চাপে পিঠ ঘেমে আছে..।। কালো মুখ আর সাদা টিস্যুর লেপনে দাঁড়ি খসখস করছে..।।

চোখের সামনে কিছু কুচি করে রাখা কাঁচামরিচ..!! ভয়ংকর জিনিস..।।
– “মামা, ঝাল ছাড়া বানান..।।”
– “এক প্লেট দিবো..??”

আমি টাকা হিসাব করে দেখলাম, কয় প্লেট নেয়া যায়..!! ভেলপুরি খাওয়ার সময় আবার আমার হিসাব থাকে না..।। মাঝে মাঝে সব টাকা এর পিছনে শেষ করে হেঁটে হেঁটে বাসায় যেতে হয়..।।
বিরক্তিকর একটা জিনিস এই ভেলপুরি..।। দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়..।। >_<

আর খেতে বসলেই কোনো হিসাব থাকে না..।। আসলে আমার কোনো বিষয়েই হিসাব থাকে না..।।
তবে একটা হিসাব খুব পোড়াচ্ছে..।। প্রায় সাড়ে সাত হাজারের হিসাব..।। -_-

হুম, তিন হাজারের মতো পুরোনো ম্যাসেজ পড়ে বাকিটা আন্দাজ করে নিয়েছি..।। সাড়ে সাত হাজারই হবে..।।

কিভাবে ফ্রেন্ডলিস্টে এসেছিলো, মনে নেই..।। কিভাবে শুরু তাও মনে নেই..।। তবে, প্রশ্নের পর প্রশ্ন আর কথার পিছনে কথা..।। এভাবেই চলছিলো..।। 😦

– “তুমি ভূত বিশ্বাস করো..??”
– “বোগাস জিনিসে আমার বিশ্বাস নাই..।।”
– “কে বলছে..!! আমি নিজে দেখছি আমাদের বাসার পিছনের আম গাছে বসে থাকতে..।।”
– “তাই নাকি..!! Wah.. দেখতে কেমন..??”
– “কালো, অনেক শুকনা, বড় বড় চোখ, খাঁড়া খাঁড়া চুল..।।”

মনে হলো আমার বিবরন দিলো..।। 😥

কখনোই বিশ্বাস করাতে পারি নাই যে ভূত জিনিসটা বোগাস..।। বরং নিজেই একদিন আয়নায় নিজের মুখ দেখে মনে হচ্ছিলো এইটাই ভূত..!! -_-

আরেকদিন খুব গরমের দিন ওর চা খেতে ইচ্ছে করছে..।। বাসায় পাতি নেই..।।
ওর আবার খুব চা’য়ের নেশা..।।
– “আনারকলি মার্কেটের কয়েন চা অনেক মজা..।। টেস্ট করেছো কখনো..??”
– “নাহ্, বাইরের চা কখনোই খাওয়া হয় না..।।”

– “জানো, মার্জিয়া আবারো আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে..।।”

– “তুমি ঘুড়ি উড়াতে পারো..??”

– “সিগারেট খাওয়া পাপ..।।”

– “অ্যাঁএএএ, তামিম আউট হয়ে গেছে..।।”

এর সবই ওই সাত হাজারের হিসাবের কিছুটা..!! 🙂

ওর আই.ডিতে দেখতাম একটা ছেলেকে প্রায় সময় ট্যাগ দিতে..।। কিছুদিন ওর আই.ডি Deactive পেয়ে ওই ছেলেকে রিকোয়েস্ট দিলাম..।। এক্সেপ্ট করার পর ম্যাসেজ করলাম,
– “আপনি কি “ওর” ফ্রেন্ড..??”
– “ও আমার গার্লফ্রেন্ড..।।”

হাতের কাছে পানির বোতল রেখেই পানি খুঁজতে লাগলাম..।। না পেয়ে চার বারের চেষ্টায় সিগারেট ধরিয়ে আবার টেক্সট করলাম,
– “ও..।। কতবছর হলো..??”
– “দুই বছর..।।”
– “আচ্ছা, একটা শেষ প্রশ্ন..।। ওর আই.ডি Deactive কেনো..??”
– “Sorry bro.. আমার গার্লফ্রেন্ডের পার্সোনাল ম্যাটার শেয়ার করতে চাচ্ছি না..।।”
– “ওকে ব্রাদার..।। থ্যাংকু..।। Take Care..”

আই.ডি Active হোক বা না হোক, কার কি আসে যায়..?? 😦

ভেলপুরি হাতে আমি তাকিয়ে আছি পরীবাগ ব্রিজের পাশের আম গাছটার দিকে..।।
বলা যায় না..।। হয়তো এই গাছেও বসে আছে কোনো বড় চোখের শুকনো, কালো, খাঁড়া চুলের ভূত..!!

#Skblsya √

Find Me On Facebook →
facebook/Skblsya22

“অসামাজিক”

কোটিপতি বাবার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এ বসে নিজেকে প্রিন্স বা প্রিন্সেস ভাবতে ভালোই লাগে..।। ভালো লাগে “Off to Pataya Beach” লিখে ফেসবুকে চেকইন দিতে..।।

এরকম ভালো লাগা নিয়ে বেড়ে ওঠা মানুষগুলো যখন কফি খেতে Gloria Jeans’এ যেতে চায় তখন পাশের একটা বন্ধু,

– “আমার একটু কাজ আছে, তোরা যা..।।”

এই বলে পাশ কেটে যায়। খুব অসামাজিক মনে হয় তাকে..?? 😒

কলেজ থেকে ট্যুর এ যাচ্ছে সবাই..।।

এই হবে সেই হবে প্ল্যান করতে বন্ধুরা যখন ব্যস্ত তখন কেও একজন মন ভোলানো কারণ দেখিয়ে সরে আসে ট্যুর থেকে..।। তার গায়েও লেগে যায় “অসামাজিক” ট্যাগ..।। -_-

তোমরা যখন সেন্ট-মার্টিনে যাও চন্দ্র পোহাতে, তখন সেই অসামাজিক ছেলেটা জানালা দিয়ে চাঁদ দেখে..।। ভাবে,

– “আহা, এতো মায়া কেনো!!”

সবার হৈ-হুল্লোড়ের মাঝ থেকে একজন অসামাজিক মানুষ ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হয়ে যায়..।। তুমি শুধু মানুষটার পাশ কেটে যাওয়া দেখ, তার মলিন মুখের বোবা ভাষা বুঝতে কিন্তু যাওনা..।। 🙂

তুমি যখন সেমিস্টার ব্রেকে সমুদ্র স্নানে যাওয়ার গোছগাছ করছ তখন ঐ অসামাজিক ছেলেটা তার পরবর্তী সেমিস্টার ফি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে..।। 😦

দুই-তিনটা টিউশনি করিয়ে যা পায়, সেটা দিয়েও সে কখনো কোনো বন্ধুকে বলার সাহস পায় না,

– “চল, আজ বাইরে নাস্তা করি..!!”

তুমি যখন “Appeliano” তে বসে cappuccino নিয়ে বসে আছো তখন সে ছোট বোনের স্কুল ফির জন্য আরেকটা টিউশনি পেতে জুতোর তলা ক্ষয় করছে..।। :/

ঝুম বৃষ্টিতে গাড়ির ভেতর বসে “Rain on Glass” ক্যাপশনের ছবি তুলে পোষ্ট করতে তোমার আঙ্গুল যখন আইফোনের স্ক্রিন ছুয়ে যায় তখন তোমারই অসামাজিক কোন বন্ধু প্যান্ট গুটিয়ে বৃষ্টির চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে লোকাল বাসের পেছনে দৌড়াতে থাকে..।। 😖

You Know, বৃষ্টি শুধু গান আর নাটকেই রোমান্টিক..।। বাস্তব জীবনের ভালোবাসা এক প্লেট সাদা ভাত, একটু সালাদ আর কিছুটা ভাসমান ডাল..!!

ওরা অসামাজিক কারণ ওদের দুনিয়াটা তোমাদের Fairy Tale দুনিয়ার মত নয়..।। ওরা Richi Rich Cartoon ও না, Towhid Afridi হয়ে ওরা জন্মায়নি..।। 😞

ওদেরও মন আছে,

ওদেরও ইচ্ছে করে কোনো এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় কেউ ফোন দিয়ে আহ্লাদ করে বলবে,

– “চলো না, আজ বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে আসি..??”

তখন আলতো বিরক্তিভাব এনে বলবে,

– “কি যে জ্বালাও তুমি, ঘুমাচ্ছিলাম একটু..।। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও, নাইলে আবার ঘুমায়া যাবো!!” 

#Skblsya √

“ছোট থেকেই ইচ্ছেপূরণ”

ছোট বাচ্চারা যখন কোনো বিষয় বুঝতে না পারে, তখন তারা বড়দের প্রশ্ন করতে করতে বিরক্ত করে ফেলে..!! আমরা তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না..।।

ওরা পড়ালেখা নিয়ে প্রশ্ন করুক, ফ্যামিলির সবাই এসে বুঝাবে..।। কিন্তু, যখনই কোনো Out knowledge নিয়ে প্রশ্ন করবে বড়রা বিরক্ত হয়ে যাবে..।। এই ছোট বয়সে এসব কি..!! :/

উদাহরণ, আমি ক্লাস ফাইভের এক মেয়েকে পড়াতাম..।। মেয়ে ধর্ম তে একবার ৬৫ পেয়েছে..।। মা তাকে থ্রেট করছে, এরপর ৮০ এর ওপর নাম্বার না পেলে ওকে রেখেই নানু বাড়ি চলে যাবে..।। :O

আন্টি চলে যাওয়ার পর মেয়েটা কান্না শুরু করে দিলো..।। বুঝতে পারছি না কি করবো..!!
– “এই, আন্টি তোমাকে ভয় দেখাইছে..।। কোথাও যাবে না..।। কান্না থামাও..।।”
– “না ভাইয়া, এর আগেও আম্মু আমার ওপর রাগ করে চলে গেছিলো..।। অনেক কান্না করছি পর আসছে..।।”

আমি প্রথমে পাত্তা দেই নাই..।। কয়েকদিন পড়ানোর পর বুঝলাম মেয়ের মা’য়ের সমস্যা আছে..।। মেয়েকে টিভি দেখতে দেয় না, বাইরে যেতে দেয় না..।। শুধু পড়ো আর পড়ো..।। >__<

আমার নিজের ফ্যামিলিই অনেকটা এরকম..।। বাসা থেকে আমাকে ক্লাস নাইনে কমার্স নিতে বলা হলো..।। আমি কাউকে না জানিয়ে স্কুলে সায়েন্সের জন্য রেজিস্টেশন করে আসলাম..।। 😦

বাসায় আমার জন্য স্যার রাখা হলো কমার্সের..।। আমি স্যারকে প্রমিজ করে ম্যানেজ করলাম..।। স্যার নিজেও একসময় স্যায়েন্সের স্টুডেন্ট হওয়ায় আমাকে লুকিয়ে সায়েন্সের পড়া বুঝাতে লাগলেন..।।
Iraz Hossain স্যার, আমি আপনার কাছে এখনো কৃতজ্ঞ..!! Love You Sir..।। 🙂

বাসায় কেউ কিচ্ছু জানে না, যে আমি সায়েন্সে..।। বাসা ভর্তি কমার্সের বইপত্র..।। বন্ধুরা আমাকে তাদের বই ধার দিয়ে সাহায্য করতে লাগলো..।। :/

এরপর ক্লাস টেনে উঠার সময় রেজাল্টের দিন আব্বু স্কুলে গেলেন রেজাল্ট কার্ড দেখে আব্বু থ..!!
আমি সায়েন্সের স্টুডেন্ট..!! রোল ৯ হয়ে গেছে আমার..।। HR Habib তোর রোল ছিলো ৮..।। মনে পড়ে গেলো..!! ^_^

পুরো একটা বছর এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছি..।। আব্বু মানতেই পারছিলেন না..।। তিনি আর পড়ার খরচ দিবেনই না আমাকে..!! 😥

স্কুলের স্যার ম্যাডাম, এমনকি বন্ধুদের বাবা-মা’রা এসে আমার ফ্যামিলিকে বুঝালো..।। সবশেষে আমার বাবা গাঁইগুঁই করে রাজি হলো আরকি..!! শর্ত একটাই A+ না পেলে সায়েন্স ছাড়তে হবে..!!

দুর্ভাগ্য, SSC তে A+ পাইলাম না..।। 4.75 নিয়ে ভালো কলেজে চান্স পাওয়া যাবে না..।।
আব্বুর শর্ত মেনে নিলাম..।। HSC তে এসে কমার্সে ভর্তি হলাম..।। তবু সায়েন্স সাবজেক্ট’টার প্রতি একটা ভালোবাসা ছিলো..।। যার কারনে SSC এর পরেও Mahmood Hasan Kallol মামাকে বাসায় এনে ইন্টারের ফিজিক্স এর ২ টা চাপ্টার শেষ করেছিলাম..।। মনে আছে মামা..??
Love you too.. _<

Whatever,
বাবা-মা’রা খারাপ চেয়ে কখনোই এসব করেন নি..।। তারা মনে করেন ভালোর জন্যই করছেন..।।
তাদের এক প্রকার অন্ধতার জন্য অনেক ছেলেমেয়েরাই তাদের জীবনের ইচ্ছে গুলোকে বিপরীতে নিতে গিয়ে কষ্ট পায়..।। 😦

বাল্যকাল মানেই শুধু পড়ালেখা না..।। সবকিছুই জানার, ইচ্ছে পূরনের Rights আছে..।। বরং স্টাডির থেকে এটাই বেশী Important.. -_-

পড়ালেখা শুধু একটা গ্রেডপয়েন্ট, যা আপনাকে ভাইভা বোর্ড পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে..।। কিন্তু, জীবন চালাতে গেলে অবশ্যই Out Knowledge লাগবে..।।
অবশ্যই..!! -_-

ছোটবোন বলছে, ওর মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছে..।। আব্বু বলছে মেডিকেলে পড়ালেখায় অনেক খরচ..।।
আর আমি মনে মনে বলছি,
– “তুই শুধু ইন্টার পাশ কর..।। আমি কিডনী বিক্রি করে তোকে পড়াবো..।।”

#Skblsya √

“অনেক বড়” হতে চাই

image

খুব রাতে মা-আপুর চিল্লাচিল্লি শুনে ঘুম ভেঙে গেলো..।। আপনি দৌড়ে Parents এর রুমে গিয়ে দেখলেন আপনার বাবা’র হার্ট অ্যাটাক হয়েছে..।। হাসপাতালে নিতে নিতেই শেষ..!! -_-

কিছুক্ষণ মাথা ঝিম ঝিম করবে, চোখ ফেটে কান্না চলে আসবে..।। এরপর বাবার দাফন করতে করতেই মাথায় চিন্তা চলে আসবে, ফ্যামিলির কি হবে..!! 😦

আপনি একমাত্র ছেলে অথবা বড় ছেলে/মেয়ে হলে তো কথাই নেই..।। অলিখিত সত্য আপনাকেই ফ্যামিলির দায়িত্ব নিতে হবে..।।
গোটা পরিবার তাকিয়ে থাকবে আপনার দিকে..।। :/

আপনার মা বুঝতে পারবে, সংসারে এখন তার কথা বলার মানুষটা চলে গেলো..।। সব কথা সংসারে স্বামী ছাড়া সবাইকে বলা যায় না..।। 😦

ছোট বোন টা বুঝবে, বার বার নতুন জামা চাওয়ার অভ্যাসটা ছাড়তে হবে..।। ছোটভাইটা তার অনেক খরুচে স্বভাব ছেড়ে দিবে..।। 🙂

আর আপনার কি হবে..?? যার ওপর সংসারের এতো বড় ভার চলে আসলো..!!
আমার বাবা মারা গেছে..।। আগে আমার চাওয়া পাওয়া ছিলো মা’য়ের কাছে..।। এখন থেকে আপনার দেখতে হবে আপনার মা’য়ের চাওয়া পাওয়া..।।
কি কঠিন বাস্তব..।। -_-

Mb কেনা কমে যাবে, চাইলেও বন্ধুকে ধার দিতে পারবেন না..।। চায়ের দোকানে আড্ডা কমে যাবে..।। হাজারটা শখ পূরন করা হবে না..।। বাবার কাজটা আপনাকে করতে হচ্ছে..।।
হঠাৎ করেই যখন এমন একটা অবস্থা হবে, বুঝতেই পারবেন একটা সময় আপনার বাবা মারা যাওয়াতে আপনি যতটা কেঁদেছেন তার চেয়ে বেশী কান্না আসছে আপনাকে একা সব সামলাতে হচ্ছে বলে..।। 😦

আপনার বাবা সারাদিনে দুই কাপ চায়ের টাকা বাঁচিয়ে চলেছে হিসাব করে..।। দুই কাপ চা ১২ টাকা..।। মাসে ৩৬০ টাকা, তার মানে মানুষটা তার ছেলের দুইদিনের হাত খরচ দিতে পারবে..।। 🙂

আপনি, আমি, আমরা এই বিষয়টা হঠাৎ করেই পারবো না..।।

মানুষ মারা যাবেই..।। আমি যদি বেঁচে থাকি তাহলে আমার আগেই আমার বাবা মারা যাবেন..।। এটাই সত্যি..।। আর এ জন্যই আগে থেকেই একটা প্রিপারেশনের ব্যাপার থাকে..।। Seriously একটা Preparation এর দরকার থাকে..।। -_-

আগে থেকেই সংসারের Responsibility গুলো একটু একটু করে বুঝতে শিখে নেয়া ভালো..।। We think, বাবা তো আছেই, বাজারের চিন্তা করতে হবে না..।। কিন্তু, এখন থেকেই বাজারের আইডিয়া থাকতে হবে..।। At least, একটা Accident হয়ে গেলে বাজারের কাজটা আপনাকেই করতে হবে..।। 🙂

নয়তো, দোকানদার আপনাকে ৫ টাকা ঠকিয়ে দিবে..।। আর তখন ৫ টাকাই অনেক কিছু হয়ে যাবে আপনার কাছে..।।

আপনার মা’র কখন কোন বিষয়টা দরকার হয় এখন থেকেই খেয়াল করুন..।। বাবা চলে গেলে, আপনার মা আপনাকে সবসময় সবকিছু বলতে পারবে না..।।
ছোট ভাই-বোনের Must needed things গুলো জেনে রাখা ভালো..।। 🙂

এগুলো জাস্ট উদাহরণ..।। এরকম অনেক সাংসারিক বিষয়গুলো এখনই আস্তে আস্তে মাথায় ঢুকিয়ে নিতে হবে..।।

যাতে, একেবারেই অসহায় অবস্থায় চলে আসতে না হয়..।। 😀

আপনার মাথায় যখনই চিন্তা চলে আসবে, সংসারটা আপনার..।। সংসারের বাকি মানুষগুলোকে আপনারই দেখতে হবে…..বুঝে নিবেন সেইদিন সত্যিকার অর্থে “অনেক বড়” হয়ে গেছেন..।। 🙂

গুরুজনরা মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ দেয়,
“অনেক বড়” হও বাবা..।।
তারা আমাদের এভাবেই বড় হতে বলেন..।।

#Skblsya √

Find Me On Facebook →
facebook/Skblsya22

“বাবা, তুমি অনেক কিউট”

image

– “বাবা, আমার ৪০০০ টাকা লাগবে..।।”
– “কেনো..??”
– “নতুন সেমিস্টারের বই কিনতে হবে না..??”
– “বইয়ের দাম এতো..?? নিউমার্কেটে না পুরোনো বই পাওয়া যায়..??”
– “এডিশন চেঞ্জ হইছে..।। পুরোনো বইতে হবে না..।।”

স্বল্পশিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাবা এতোকিছু বুঝেন না..।। বাসার সবার শপিং শেষ..।। অল্পকিছু টাকা ছিলো, ভেবেছিলেন এইবার ঈদে আয়েশা মার্কেট থেকে সস্তায় নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি কিনবেন..।।
অনেকদিন নিজের জন্য কিছু কেনা হয় না..।। 😦

থাক, ছেলে পড়ালেখা করে আমাকে পাঞ্জাবি কিনে দিবে..।। তখন সেই পাঞ্জাবি পড়ে মোসলেম ভাইয়ের সামনে ফুটানি মারা যাবে..।। 😀

★★★
– “ওয়াও, এতো সুন্দর একটা ড্রেস..!!”
– “হুম, তোমার ঈদের জন্য স্পেশাল গিফট..।।”
– “সত্যি, আমার অনেক পছন্দ হয়েছে..।। দাম কত..??”
– “একবুক ভালোবাসা..।।”
– “আহাহা, তুমি অনেক ভালো..।। I love you পাগল..।।”

এখানে একবুক ভালোবাসার পরিমান কতো, জানেন..??
একজন মধ্যবিত্ত বাবার পাঞ্জাবি..!! >_<

★★★
– “কি ব্যাপার..?? আপনি না বললেন এইবার পাঞ্জাবি নিবেন..??”
– “ধুর, আমি বুড়া মানুষ..।। নতুন পাঞ্জাবি দিয়ে কি হবে..?? আগের বছরের টাই তো এখনো নতুন..।। ইস্ত্রি করে রাইখো তো..।।”

অশিক্ষিত মা চুপ হয়ে যায়..।। অনেক কিছু আঁচ করে ফেলে সহজেই..।। :3

মা সেই কোনার রুমে বসে পাশের বাসার ভাবীদের ব্লাউজ, সেলোয়ার সেলাই করে কিছু টাকা জমিয়েছেন..।।
এই রুমে আবার ফ্যান নেই..।। প্রতিদিন বিকেলে সবাই যখন ফুল স্পীডের ফ্যানের নীচে শুয়ে একটা ভাতঘুম দেয়, এই অশিক্ষিত মা তখন গরমের মাঝে ঘাম ঝড়িয়ে সেলাই নিয়ে ব্যস্ত থাকে..।। -_-

১৮০০ টাকার মতো জমেছে..।।
চুপিচুপি সেই টাকা দিয়েই একটা পাঞ্জাবি কিনে আনেন..।। 😀

– “এইসবের কি দরকার ছিলো..??”
বাবা কিছুক্ষণ বিরক্ত হওয়ার ঢঙ করে ছেলেকে ডেকে এনে দেখান,
– “দেখ, তোর মা আমার জন্য একটা পাঞ্জাবি আনছে..।। কেমন হইছে..??”
– “ভালো..।।”

ছেলে দায়সারা একটা কমেন্ট করে পালিয়ে যেতে পারলেই বাঁচে..।।
পকেটে ভাইব্রেশন হচ্ছে..।। :/

নিজের রুমে এসেই ফোনব্যাক করে,
– “এতোক্ষণ লাগে ফোন ধরতে..??”
– “স্যরি বাবু, আব্বু সামনে ছিলো..।।”
– “আচ্ছা, শোনো..।। তোমার জামাটা পড়ে দেখলাম..।। অনেক সুন্দর মানিয়েছে..।।”
– “তাই..?? আমি জানতাম..।।”
– “অনেকগুলো থ্যাংকু বাবু..।। I love you..”
– “Love you too..” 🙂

So..?? কি দাঁড়ালো..??
এই বাবুটার ছোট্ট একটা হাসি বা থ্যাংকুর দাম কি হবে..??
একজন মধ্যবিত্ত বাবার পাঞ্জাবি..?? নাকি একজন মা’য়ের ঘাম ঝড়ানো বিকেল..?? 😦

আর এভাবেই আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বাবাদের, মা’কে ধোঁকা দিয়ে আমাদের অনিশ্চিত ভালোবাসা টিকিয়ে রাখি..।। -_-

★★★
বাবা দিবসে একটা বান্ধবী আমাকে ম্যাসেজ করলো..।। ও কান্না করছে..।। ব্যাপার কি..?? ফোন দিলাম..।।
ও আচ্ছা, হুম..।।
সে বাবাকে খুব মিস করছে..।। তার বাবা এখন বেঁচে থাকলে এখন কতকিছু করতে পারতো..!! একটা সারপ্রাইজ পার্টি মিস করছে মেয়েটা..।। 😦

– “এই, তুমি কিছু করো নাই তোমার বাবার জন্য..??”
– “না মানে, এখন রাত হয়ে গেছে..।। এখন আর কি করবো..??”
– “কি করবা মানে..?? তোমার বাবার জন্য সারপ্রাইজ কিছু একটা করো..।। ঘর সাজাও, কেক আনো, কিছু একটা গিফট করো..।।”

সেদিনের সেই বান্ধবীকে এত্তোগুলা Thankxxxxx….. 😀
জানি তুমি স্ট্যাটাসটা দেখবা..।। 🙂

পকেটে ২৫০ টাকা ছিলো..।।
ছোটবোনকে নিয়ে গোপন মিশনে নামলাম..।। ওকে অনেকগুলো কাগজ আর Quotes দিয়ে বললাম, কাগজে সুন্দর করে লিখে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় টানিয়ে দিতে..।। ^_^

আপুর থেকে আরো কিছু টাকা ছিনতাই করে একটা কেক, আর গিফট হিসেবে একটা চিরুনি আর রুমাল কিনে আনলাম..।।
(কেক কিনতে গিয়ে টাকা শর্ট পড়ে গেছে) 😥

সবকিছু নিয়ে বাসায় এসে দেখি আব্বু আম্মুকে নিয়ে ছোট বোনের লেখা Quotes গুলো পড়ছে আর হাসছে..।। 😀
(One Of my best memories)

★★★
রাতে টিভি দেখছি, আব্বু বারান্দায় কার সাথে যেনো কথা বলছে..।।
– “জানেন আজকে বাসায় কি হইছে..??”

থাক, এগুলো আর লিখবো না..।।
আব্বু কাউকে জেলাস করাচ্ছে, ঠিক বাচ্চাদের মতো..।। ^_^

ঠিক সেইসময়ই আমার মিছামিছি ওয়াশরুমে যেতে হলো..।।
বান্ধবী কাঁদছে তার বাবাকে সারপ্রাইজ করতে না পেরে..।। আর আমাকে কাঁদতে হলো সারপ্রাইজ দিতে পেরে..।। -_-

আব্বু শোনো…..
তুমি যখন আমার চিরুনি দিয়ে চুলগুলো ঠিক করো, তোমাকে অনেক কিউট লাগে..।। ❤

#Skblsya √

Find Me On Facebook →
facebook/Skblsya22

অল্পতেই ভালোবাসা ♥

image

মেয়েটার অনেক সাধারন একটা বয়ফ্রেন্ড ছিলো..।। কিন্তু, ফ্যামিলির চাপে পড়ে বিয়ে করে ফেললো অন্য এক আমেরিকান সিটিজেনকে..।। -_-

ওই ছেলের গাড়ি, বাড়ি আর সিটিজেনশীপ আছে..!! দেখতেও হ্যান্ডসাম..।। আর কি চাই..??
মেয়েও তাই বেশী চিন্তা করে নাই..।। সাধারন বয়ফ্রেন্ডটার সাথে পড়ে থাকলে দুইবেলা দুই মুঠো ভাত ছাড়া আর কিছুই পাবে না..।। আর ফ্যামিলিও যেহেতু চায়…..
আর কি লাগে..!! >_<

সাধারন বয়ফ্রেন্ডটা কষ্ট সহ্য করে মেনে নিয়েছে..।। না নিয়ে লাভ নাই..।। সে একা না..।। তার ওপর তার পরিবার ডিপেন্ডেন্ট..।। 🙂

মেয়েটা আমেরিকা চলে গেলো, আর হাজব্যান্ডের আসল রূপ দেখতে পেলো..।। প্রতিরাতে নেশা করে এসে মেয়ের ওপর হাত তোলা, ইংলিশে গালিগালাজ, আরো বিশেষ কিছু টর্চার..।। :3

মেয়েটা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো..।। হাতের কাছে গাড়ি, ৩২ ইঞ্চি টিভি, এয়ার কন্ডিশনড রুম..।। তবু ভালোবাসা নেই..।।
এই ভালোবাসা নেই বলেই জীবনটা বৃথা হয়ে গেলো..।। 😦

বড়জোর দুই বছর..।। এর পর আর টিকতে পারেনি..।। ডিভোর্স দিয়ে আবার গরম বাংলাদেশে..।।
এখানেও বেশীদিন টিকতে পারে না..।। রিলেটিভরা খারাপ চোখে দেখে, প্রতিবেশীরা খারাপ চোখে দেখে..।।
নামের পাশে ডিভোর্সি অনেক কষ্টের ব্যাপার..।। :/

মনের কথা খুলে বলার জন্য আবার খুঁজে বের করলো তার সেই সাধারন বয়ফ্রেন্ডকে..।।
বয়ফ্রেন্ড ছেলেটা আসলেই সাধারন..।। ছেলের ভালোবাসায় কোনো জটিলতা ছিলো না বলেই আবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলো..।।
ফ্যামিলি তো হাতে চাঁদ পেয়ে গেছে..।। এইবার আর কোনো স্ট্যাটাস দেখলো না..।। ছেলেটার সাথে মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেলো..।। 🙂

মেয়েটা সেই সাধারন ছেলেটার সাথেই শেষ জীবন পর্যন্ত ছিলো, ভালোই ছিলো তাদের জীবন..।।
কোনো গাড়ি ছিলো না, আলিশান বাড়ি ছিলো না..।।
ছিলো,
দুই মুঠো ভাত, আর অনেকখানি ভালোবাসা..।। ❤

★★★
উপরে যেই গল্পের কথা বললাম, এরকম অনেক আছে..।। এরা স্ট্যাটাস দেখে, টাকা দেখে..।। ভালোবাসা, ভালো মানুষ দেখে না..।।
কিন্তু, থেকায় পড়লে সবাই বুঝে ভালোবাসায় কত ভালোকিছু আছে..।। 🙂

#Moral_Of_The_Story
ভালোবাসা মানে সব পাওয়া না..।। ভালোবাসা মানে অল্পকিছুতে অনেক ভালো থাকা..।। 😀

Note :
আমার আব্বু-আম্মু মাঝে মাঝেই ঝগড়া করে..।। সিরিয়াস কিছু না..।।
কিন্তু, কিছুক্ষণের জন্য তাদের কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়..।। :/

তখন দেখা যায়, আব্বু হঠাৎ করে একটা নতুন ডেকচি/সিরামিক প্লেট সেট কিনে আনে..।। যেটা আম্মু অনেক আগেই সংসারের জন্য চাইছিলো..।।
আব্বু জানে আম্মুকে গৃহস্থালি উপহার দিলেই সে বেশী খুশী হয়..।। 😀

অথবা,
আব্বু রাগ করে আছে আম্মুর ওপর..।। তখন আব্বু বিকেলে বাইরে যাওয়ার সময় আম্মু একজোড়া মোজা এনে আব্বুর সামনে ছুঁড়ে ফেলে আমাকে বলে,
– “আগেরটা ছিড়ে গেছে..।। এইটা পরে বাইরে যেতে বল..।।”

আব্বু এতেই অনেক খুশী..।। 😀

তখন মনে হয়,
“ইশশ..!! কত অল্পচিনি’তেই ভালোবাসা এতো মিষ্টি..।।”

#Skblsya √

Find Me On Facebook →
facebook/Skblsya22